সাবিয়া ইসলাম সাবিয়া ইসলাম
রিপোর্টার
আসল তালাশ নকলে ক্রাইম তালাশ’ আড়ালে ব্ল্যাকমেইলিং: হোয়াটসঅ্যাপে হয়রানির অভিযোগে থানায় জিডি


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীতে ‘দৈনিক ক্রাইম তালাশ’ ও ‘দৈনিক ক্রাইম তালাশ প্রতিদিন’-এর মতো নামসর্বস্ব ও অনুমোদনহীন পোর্টালের নাম ভাঙিয়ে একশ্রেণির প্রতারক চক্রের চাঁদাবাজি ও হয়রানি চরমে পৌঁছেছে। ভুঁইফোড় এসব চক্রের সদস্যরা গলায় নামমাত্র আইডি কার্ড ঝুলিয়ে এবং মানহানিকর ভিডিও করার ভয় দেখিয়ে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় এক সম্মানিত ব্যক্তিকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও থানা সূত্র জানায়, মতিঝিল এলাকার ওই সম্মানিত ব্যক্তিকে প্রতিনিয়ত হোয়াটসঅ্যাপে (01867329107) মেসেজ ও কল দিয়ে ‘দুর্নীতিবাজ’ বানানোর হুমকি দিচ্ছেন মাহমুদুল করিম নয়ন (মাহমুদুল কবির নয়ন) নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে ‘দৈনিক টাইম প্রতিদিন’ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনি ভুক্তভোগীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা না দিলে তাকে বড় ধরনের সামাজিক মর্যাদাহানির ভয় দেখানো হয়। ভুঁইফোড় ও নামসর্বস্ব এসব পোর্টালের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্ল্যাকমেইলের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ভিত্তিহীন ও ভুয়া অভিযোগ সংবলিত নিউজ স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন।
পরবর্তীতে সেই খসড়া নিউজ লিংক ও ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দাবি করা হয় যে, এটি একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ প্রতিবেদন। শুধু তাই নয়, একটি অখ্যাত অনলাইন পোর্টালের ভুয়া নিউজের লিংক পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়—দাবি পূরণ না করা হলে সংবাদটি প্রিন্ট পত্রিকায় বড় আকারে প্রকাশ করা হবে।
এই ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষে তার এক আত্মীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হন। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও কল রেকর্ডসহ হয়রানি ও চাঁদাবাজির সমস্ত প্রমাণ সংযুক্ত করে রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে বা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এর আগেও এই চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুঁইফোড় পোর্টাল ও ভুয়া সাংবাদিকদের এমন অপতৎপরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মূলধারা সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, এটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঢাল হতে পারে না। নামসর্বস্ব ও ভুঁইফোড় পোর্টালের আড়ালে যারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করছে, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এসব ভুয়া সাংবাদিক ও প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা।”
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব অনুমোদনহীন পোর্টাল ও ভুয়া কার্ডধারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চালানো প্রয়োজন। কোনো নাগরিক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিস্তারিত আসছে মূল ধারার গণমাধ্যমে।

