প্রকাশিত: 8:59 PM, October 23, 2026


লৌহজংয়ে ইউসুফ ঢালির নামে অসুস্থ ও মৃত গরু কেনাবেচার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার—
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অসুস্থ ও মৃত গরু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ইউসুফ ঢালি (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের বানিয়াগাঁও গ্রামের মৃত হাসেম ঢালীর ছেলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার নিজ ইউনিয়নের কলিকাতা ভোগদিয়া গ্রামের একটি মসজিদের উত্তর পাশে লোকমান (৫৬) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অসুস্থ গরু কেনেন ইউসুফ। স্থানীয়দের ধারণা, গরুটি ক্যানসার রোগে আক্রান্ত ছিল।

গরু কেনাবেচার বিষয়টি জানতে সাংবাদিক গন ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গরু কেনার বিষয়টি জানা যায়,  প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে দাবি হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতুকে জানানো হলে তিনি উপজেলা প্রশাসনের লোকজনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তবে প্রশাসনের লোকজন পৌঁছানোর আগেই ইউসুফ গরুটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, ইউসুফের বিরুদ্ধে সাত-আট মাস আগে হাটভোগদিয়া গ্রামের খালেক শেখের তিনটি মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগও সামনে এসেছে। এ বিষয়ে খালেক শেখ বলেন, তাঁর গরুগুলো লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, গরুগুলো মারা যাওয়ার পর সেগুলোর মাংস বিক্রি করা হয়েছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ শেখসহ কয়েকজনের দাবি, ইউসুফ এ ধরনের ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি ইউসুফ ৪০ লক্ষ টাকার মালিক। সচেতন মহলের মতে, অসুস্থ বা মৃত পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে বিক্রির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু দুটি পৃথক স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছিলেন। সচেতন মহলের দাবি, পশু জবাই, মাংস বিক্রি ও খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি- অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে, আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি জরুরি,  কারণ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।