প্রকাশিত: 2:28 AM, September 16, 2026


যাত্রাবাড়ীতে রাতের আঁধারে অবৈধ গ্যাস সংযোগ: নেপথ্যে কে এই ‘গ্যাস জাহাঙ্গীর’?

{“remix_data”:[],”remix_entry_point”:”challenges”,”source_tags”:[“local”],”origin”:”unknown”,”total_draw_time”:0,”total_draw_actions”:0,”layers_used”:0,”brushes_used”:0,”photos_added”:0,”total_editor_actions”:{},”tools_used”:{},”is_sticker”:false,”edited_since_last_sticker_save”:false,”containsFTESticker”:false}

​নিজস্ব প্রতিবেদক:
​সারাদেশ যখন তীব্র গ্যাস সংকটে জর্জরিত, বৈধ সংযোগের গ্রাহকরা যখন চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন—ঠিক সেই সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৪৮ নং ওয়ার্ডের বিবির বাগিচা এলাকায় চলছে হরিলুট। রাতের আঁধারে প্রকাশ্যেই বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে উঠছে শত শত অবৈধ গ্যাস সংযোগ। স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী থানার পেছনের এলাকাসহ বিবির বাগিচার অলিগলিতে দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে এ অবৈধ গ্যাস সংযোগের কাজ চলছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মূল লাইন থেকে রাইজার বা বিভিন্ন কৌশলে সংযোগ নিয়ে এলাকার বাসা-বাড়িতে তা সরবরাহ করা হচ্ছে।

​এলাকাবাসীর অভিযোগের মূল তীর যার দিকে, তিনি এলাকায় ‘গ্যাস জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে, অথচ মাসের পর মাস দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলে না। অথচ প্রতিদিন রাতে চোখের সামনে অবৈধ সংযোগের পাইপ টানা হচ্ছে। ‘গ্যাস জাহাঙ্গীর’ ও তার সহযোগীরা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে এসব অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হুমকি ধামকি সহ্য করতে হয়।” ভুক্তভোগী সাধারণ পরিবারগুলোর অভিযোগ, একদিকে অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত গ্যাস টানে ফেলার কারণে পুরো এলাকার পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। দিনের বেলা চুলা না জ্বললেও রাতে অবৈধ সংযোগধারীদের লাইনে তীব্র চাপ থাকে—যা চরম বৈষম্যের সৃষ্টি করছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে এবং নিম্নমানের পাইপ দিয়ে এসব সংযোগ দেওয়ার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

​এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির বিষয়ে অপরাধ ও আইনি বিশেষজ্ঞরা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। ​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তিতাস গ্যাসের লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়া বা গ্যাস চুরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। গ্যাস সংযোগ আইন ও জ্বালানি নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এটি রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি এবং জননিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

​অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কোম্পানির সংশ্লিষ্ট জোনের নজরদারি না থাকলে জনবহুল একটি এলাকায় এভাবে রাতের আঁধারে অবৈধ সংযোগ স্থাপন করা অসম্ভব। এ ধরনের চক্রের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক কোনো ছত্রছায়া থাকতে পারে। তাই শুধু মাঠপর্যায়ের ব্যক্তিদের ধরলে হবে না, নেপথ্যে থাকা গডফাতদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা জরুরি। ​​জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম কীভাবে দিনের পর দিন চলছে—তা নিয়ে এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যৌথ অভিযান কামনা করেছেন।

​অবৈধ গ্যাস সংযোগের এই রমরমা বাণিজ্য বন্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ‘গ্যাস জাহাঙ্গীর’ ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ৪৮ নং ওয়ার্ডের সচেতন ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ​এই বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য জানতে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের অনুসন্ধানে অব্যাহত থাকবে।