
নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘জয়যাত্রা প্রতিদিন’ অনলাইন পোর্টাল এবং ফেসবুক পেজে বরিশালের নদীভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল অঞ্চলের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদকে জড়িয়ে যে ভিডিও ও সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রকাশিত ওই সংবাদটিকে সম্পূর্ণ একপক্ষীয়, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো সংবাদের সত্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নৈতিকতা সবসময় উভয় পক্ষের বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য ও নিরপেক্ষ তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সাংবাদিকতার সর্বজনীন নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো সংবাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করার কথা থাকলেও, আলোচ্য সংবাদটিতে সেই মৌলিক নীতিমালা উপেক্ষা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে পত্রিকা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চিফ রিপোর্টার ও ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল। সে সময় উভয় পক্ষের বক্তব্য সমন্বয়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্মত চুক্তি ও নৈতিকতার প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন না করেই একতরফা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়, যা সাংবাদিকতার আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সাংবাদিকতার নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগমূলক সংবাদ প্রকাশের পূর্বে তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় যার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য যথাযথ সময় চেয়ে ঢাকায় ফিরে সরাসরি যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের অপেক্ষা না করে তড়িঘড়ি করে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উল্লেখ্য, এর আগেও জাতীয় ও মূলধারার তিন থেকে চারটা সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছিল, অতঃপর থানায় দুটি আইনগত প্রক্রিয়ায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবাদ প্রকাশ কেবল প্রচারের হাতিয়ার নয়, এটি একটি সামাজিক আমানত। একপক্ষীয় তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। হলুদ সাংবাদিকতা কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি প্রতিহত করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
উক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একতরফা সংবাদের বিষয়ে যথাযথ অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবাদলিপি বা সংশোধনী প্রকাশ করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার ও হলুদ সাংবাদিকতা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।