
বিশেষ প্রতিনিধি, তারাকান্দা (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক ফিশারী ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের মূলাবাড়ী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফিশারী ব্যবসায়ী মো. আল আমিন সরকার (৩১) বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে তারাকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মূলাবাড়ী এলাকার মো. আক্কাস আলী ওরফে আকাশ মিয়া (৫২), তাওহিদ হোসেন রবিন (৩০), নাজিম উদ্দীন (৫২), গোলাম মোস্তফা (৩৫), ফজলুল হক (৩২), অন্তর মিয়া (২২), সাইদুল ইসলাম ওরফে তুলা মিয়া (৪৬) এবং ইউনুছ আলী সরকারের (৫৮) সাথে বাদী আল আমিন সরকারের পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। পূর্বে ফিশারীতে বিষ প্রয়োগ ও অন্যান্য ঘটনার জেরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫:০০ ঘটিকার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (দা, লোহার রড, বাঁশ) নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আল আমিনকে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে ৩ নম্বর আসামি নাজিম উদ্দিনের হুকুম ও প্ররোচনায় অভিযুক্তরা তাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে নীলাফুলা জখম করে। এ সময় আসামিরা আল আমিন সরকারের কাছ থেকে ১৭,০০০ টাকা মূল্যের একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে আসামিরা ফিশারীর পাশে থাকা টিনের ঘর ভেঙে তছনছ করে। এ সময় ঘরে থাকা ৩৫ বস্তা মাছের খাদ্য (মূল্য প্রায় ৭৩,৫০০ টাকা), ১টি মাছের অক্সিজেনের বোতল (মূল্য প্রায় ১৮,০০০ টাকা), ১টি সিলিং ফ্যান (মূল্য প্রায় ৩,০০০ টাকা) এবং ২৬,৫০০ টাকা মূল্যের ১টি ২ ঘোড়ার মোটরসহ আনুমানিক ৮০,০০০ টাকা মূল্যের টিনের ঘর লুটপাট করে নিয়ে যায়। হামলা ও লুটপাটে আনুমানিক মোট ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আল আমিনের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা মামলা তুলে না নিলে খুন করে লাশ গুম করা ও ফিশারীতে বিষ দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে অভিযুক্ত আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে নিজের বাগানের অকেজো গাছ কেটে গ্রামের সাধারণ মানুষকে দোষারোপ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে অর্থ আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
ভুক্তভোগী আল আমিন জানান, স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।