প্রকাশিত: 8:32 AM, August 27, 2026


​মোটরসাইকেল চুরি মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার, জামায়াত এমপির সঙ্গে ছবি নিয়ে আলোচনা

বিশেষ প্রতিনিধি,
​ঢাকা: রাজধানীর কাফরুল থানায় মোটরসাইকেল চুরির একটি মামলায় ‘শ্রাবণ’ নামের এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে ওই সাংবাদিকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

​পুলিশ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর মামলার তদন্তের স্বার্থেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

​এ বিষয়ে ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতের সমন্বয়ক আব্দুর রহিম জীবন বলেন, “সংসদ সদস্যের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাক্ষাৎ করতে আসেন। কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার দায়ভার এমপি বা দলের ওপর বর্তায় না। অপরাধী যে-ই হোক, এমনকি নিজের পরিবারের সদস্য হলেও, অপরাধ প্রমাণিত হলে তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।” ​সাংবাদিক শ্রাবণের সঙ্গে সংসদ সদস্যের ছবি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে অনেকেই ছবি তোলেন। তাই কারও সঙ্গে ছবি থাকলেই তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় এমপি বা দলের ওপর বর্তায়—এমনটি মনে করার কোনো সুযোগ নেই।”

​ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এসব অনুষ্ঠানে অনেকের সঙ্গেই ছবি তোলা হয়েছে। কিন্তু সময় ও পরিস্থিতির কারণে সবার ব্যক্তিগত পরিচয় বা অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকে না।

​এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “ওই ব্যক্তিকে আমি কখনো দেখিনি এবং চিনিও না। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে সেটির দায় একান্তই তার নিজের। অপরাধের বিষয়ে আমার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত।”

​এদিকে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেল উদ্ধারের পাশাপাশি মামলার সুনির্দিষ্ট তদন্তের অংশ হিসেবেই শ্রাবণকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ​তিনি আরও বলেন, “অপরাধীর ব্যক্তিগত পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পুলিশের কাছে বিবেচ্য নয়। প্রচলিত আইনের আওতায় থেকেই মামলার তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”