Online Bangla News
বাংলাদেশ

বছরখানেক পরে গ্রামে লোডশেডিং থাকবে না: নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আগামী তিন-চার বছর পর গ্রামাঞ্চলে আর বিদ্যুৎবিভ্রাট থাকবে না। গ্রামের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবেন।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকালে কেরানীগঞ্জে নতুন আইটি পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জে ‘স্মার্ট সিটি’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জ এলাকার সব বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হবে। এ বছরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলেও জানান, নসরুল হামিদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আজ কেরানীগঞ্জে ‘আইটি পার্ক’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হচ্ছে। এর মাধ্যমে আইটি ইন্ডাস্ট্রিতেও এখন কেরানীগঞ্জবাসীর অবদান রাখার ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার সময় অনেকেই বিদ্রুপ করেছে। অথচ এখন এই ডিজিটাল বাংলাদেশ কোনো স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। মুজিববর্ষে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের শতভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছি। কেরানীগঞ্জে হাইটেক পার্ক স্থাপন সম্পন্ন হলে এই এলাকার ছেলেরা গতানুগতিক ব্যবসা-বাণিজ্যর বদলে অনলাইনে কাজ করে ডলার উপার্জন করতে পারবে, যা এই দেশের আর্থসামাজিক পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।’

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে আইসিটি সেক্টরে ভারতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের ১২টি জেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পে ভারত সরকার ঋণপ্রদান করছে। বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সার্ভিস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (বিডিসেট) নামে আরেকটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৬টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, হাইটেক পার্ক ও শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে। এখান থেকে আগামী দুই বছরে ২ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। ইন্টারনেট অব থিংস, মেশিন লার্নিং, রোবোটিকস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও এক্সটেনডেড রিয়ালিটিসহ অন্যান্য উচ্চতর বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়াও ৩০ জনকে ৬ মাসের জন্য ভারতে আইসিটির উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আইসিটি খাতে যথাযথ অবকাঠামো গড়ে ওঠার কারণে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটির অধিক। সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার ৫০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। গ্রাম পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে গেছে। এখন ডলার উপার্জনের জন্য কেরানীগঞ্জবাসীকে ইউরোপ-আমেরিকা-মধ্যপ্রাচ্যে যেতে হবে না। কেরানীগঞ্জের মাটিতে বসেই মেধা খাটিয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করে ডলার আয় করতে পারবে। কেরানীগঞ্জের মাটিতে বসেই ইউরোপ-আমেরিকার কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ পাবে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেরানীগঞ্জে হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ শেষ হলে এখানে প্রায় ৩ হাজার জনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ়করণ ও আইসিটি সেক্টরসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে আইসিটি সেক্টরে ভারতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের ১২টি জেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পে ভারত সরকারর ঋণপ্রদান করছে। অদূর ভবিষ্যতে ভারত বাংলাদেশে তাদের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করবে বলে জানান দোরাইস্বামী।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কসমূহে ১৯০টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস ও প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২৩টি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে ও ১৫১টি স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনামূল্যে স্পেস-কো-ওয়ার্কিং স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করছে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইসিটি খাতে প্রায় ২২ হাজার জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জেলা পর্যায়ে হাইটেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়) প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার তরুণ-তরুণীকে আইটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য স্থাপনাসমূহের মধ্যে রয়েছে ১২টি জেলায় ৭ তলা (১ লাখ ৫ হাজার বর্গফুট) স্টিল স্ট্রাকচার মাল্টিটেনেন্ট ভবন নির্মাণ, ১২টি জেলায় ৩ তলা (২১,০০০ বর্গফুট) ক্যান্টিন ও স্টিল স্ট্রাকচার এমপি থিয়েটার ভবন, ৩টি জেলায় ৩ তলা (১৮,০০০ বর্গফুট) আর সিসি স্ট্রাকচার ডরমিটরি ভবন ও ৬টি জেলায় আধুনিক সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এবং ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরো পড়ুন

লোহাগড়া শতদল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন পলাশ

admin

শাহবাগের কদম ফোয়ারার পাশ থেকে নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার

admin

২০২৩ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কবে

admin