Online Bangla News
বাংলাদেশ

জামায়াতের সাবেক এমপি রাজাকার খালেক মণ্ডল ও রোকনুজ্জামানের ফাঁসির রায়

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাতক্ষীরা এলাকায় হত্যা ও ধর্ষণের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সাবেক এমপি আব্দুল খালেক মণ্ডল এবং খান রোকনুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

দুই আসামির মধ্যে আব্দুল খালেক মণ্ডল রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে রোকনুজ্জামান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। একাত্তরে খালেক মণ্ডল ছিলেন সাতক্ষীরায় রাজকার বাহিনীর সংগঠক, আর রোকনুজ্জামান ছিলেন ওই বাহিনীর সদস্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তারা সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় যেসব যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছেন, তা উঠে এসেছে এ মামলার বিচারে।

দুই আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ছয়টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছিল প্রসিকিউশন। তার সবগুলোই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ২০৮ পৃষ্ঠার এ রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান। তাতে খালেক ও রোকনুজ্জামান দুজনকেই তিনটি করে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার মামলাটি কার্যতালিকায় এলে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ২৪ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করে দেয় বলে প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জানান।

খালেক মণ্ডলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার। আর পলাতক আসামি খান রোকনুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রসিকিউশন ও আসামিক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

২০১৫ সালে এ মামলা হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৫ মার্চ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। সে সময় আসামি ছিল চারজন।

তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান নামের দুই আসামি বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান।

বাকি দুই আসামির মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক এমপি আব্দুল খালেক মণ্ডলকে তদন্তের সময়ই গ্রেপ্তার করা হয়। খান রোকনুজ্জামান এখনও পলাতক।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঁচ ব্যক্তিকে জবাই ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর আসনে জামায়াতের সাবেক সাংসদ আব্দুল খালেক মণ্ডলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ২ জুলাই মামলা দায়ের হয়।

মামলা করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিমুলবাড়িয়া গ্রামের শহীদ রুস্তম আলী গাজীর ছেলে নজরুল ইসলাম গাজী; পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পাঠানো হয়।

২০১৫ সালের ১৬ জুন ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খলিলনগর মহিলা মাদ্রাসায় বৈঠকের সময় জামায়াত নেতা খালেক মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাতক্ষীরায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলার মধ্যে শহীদ মোস্তফা গাজী হত্যা মামলায় সাবেক এই জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে জানতে ২০১৫ সালের ৭ অগাস্ট তদন্তে নামে, যা চলে ২০১৭ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেক মণ্ডল, রোকনুজ্জামান, আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

সেখানে মোট ৩৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য শুনে রায় দিল ট্রাইব্যুনাল।

আরো পড়ুন

বছরখানেক পরে গ্রামে লোডশেডিং থাকবে না: নসরুল হামিদ

admin

শেখ রাসেল সেনানিবাস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

admin

পুরুষ ধর্ষণ’ আইন সংশোধনে রুল জারি

admin