Online Bangla News
আন্তর্জাতিক

ইভ্যালি চেয়ারম্যান কারামুক্ত

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি’র চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (৬ এপ্রিল) বিকাল পৌণে ৬টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ধানমন্ডি থানার এক মামলায় গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন শামীমা নাসরিন। তার জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র গতকাল (৫ এপ্রিল) কারাগারে পৌঁছালে যাচাই-বাচাই শেষে আজ বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে কারামুক্তি দেওয়া হয়

ঘুষ দাবির ‘মিথ্যা অভিযোগ’ করায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ এনেছিলেন। বুধবার (৬ এপ্রিল) ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ১৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করে দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এ মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন এক সময়ের বিএনপি নেতা হুদা। বিচারক তা নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন বলে দুদকের আইনজীবী এম এ সালাউদ্দিন ইস্কান্দার জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী নাজমুল হুদা ওই দল ছেড়ে নতুন দল গড়েছিলেন। পরে ক্ষমতাসীন জোটে ভেড়ার চেষ্টা করেও হালে পানি পাননি।

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করার পর নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ২০১৭ সালে তার কাছে সোয়া ৩ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন বিচারপতি এস কে সিনহা।

তিনি বলেছিলেন, ‘সে সময় সিনহা আমাকে বলেছিলেন, টাকা না দিলে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা সবকটি মামলার রায় আমার বিরুদ্ধে যাবে। ঘটনার তারিখ ছিল ২০ জুলাই। ওই দিন দুপুরে প্রধান বিচারপতি তার খাস কামরায় ডেকে ঘুষ দাবি করেন।’

সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য মীর জাহের হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক মামলায় নাজমুল হুদার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। জরুরি অবস্থার সময় দেওয়া ওই মামলার রায়ে হুদার স্ত্রী সিগমা হুদারও ৩ বছর কারাদণ্ড হয়েছিল।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের খালাস দেয়। কিন্তু দুদকের আপিলে আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। তখন আপিল বিভাগে ছিলেন বিচারপতি সিনহা। মামলার পুনঃশুনানি শেষে হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ নাজমুল হুদাকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের তোপের মুখে থাকা প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ২০১৭ সালের নভেম্বরে পদত্যাগ করেন। তার ১ বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির একটি মামলা করেন নাজমুল হুদা। পরে মামলাটি যায় দুদকের হাতে।

ওই মামলায় হুদা অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে হওয়া সেই মামলা উচ্চ আদালতে‌ ‌‌‌‌‌‌‌‌ করার পরও প্ররোচিত হয়ে মামলাটির রায় পরিবর্তন করা হয়েছিল।

মামলাটি ডিসমিস করতে দুই কোটি টাকা ও অন্য একটি ব্যাংক গ্যারান্টির আড়াই কোটি টাকার অর্ধেক ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ চান এসকে সিনহা।”

পরে হুদার মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকে আসে। দেড় বছর তদন্ত করে এসকে সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মামলাটি ’মিথ্যা অভিযোগে’ করা হয়েছে বলে প্রমাণ হয়। তখন ‘মিথ্যা তথ্য দেওয়ার’ অভিযোগে উল্টো ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়।

২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। তদন্ত শেষে গত বছরের অক্টোবরে হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক পরিচালক বেনজীর আহম্মেদ।

ঘুষ লেনদেনের মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী বুধবার (১৩ এপ্রিল) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বরখাস্ত ডিআইজি মিজানের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক এবং দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান শুনানি করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এর আগে সোমবার (৪ এপ্রিল) মামলায় খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মিজানের বিরুদ্ধে। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সাময়িকভাবে বরখাস্তের পাশাপাশি মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

২০১৯ সালের জুলাই এনামুল বাছির ও মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম বাছিরকে ৮ বছর ও মিজানকে ৩ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন। এ ছাড়া বাছিরকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রাজধানীর উত্তর মুগদায় ১০ মাস ধরে গৃহবন্দি থাকা ১৯ বছরের কানাডিয়ান তরুণীকে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গত রোববার (৩ এপ্রিল) দুপুরে মুগদা থানার পুলিশের মাধ্যমে ওই তরুণীকে হাজির করতে বাবা-মাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ বছরের তরুণীর অসম্মতিতে তাকে ১০ মাস আটক রাখা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। এ ছাড়া কানাডিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

রিটের নথি থেকে জানা যায়, ১৯ বছরের ওই তরুণীর জন্ম কানাডায়।কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। তার বাবা-মাও কানাডায় থাকতেন। ১০ মাস আগে তার বাবা-মা বেড়ানোর কথা বলে তাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর ওই তরুণী কানাডায় ফিরে যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, তরুণীর কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে তার নানি ও মা সব সময় বাসায় বন্দি করে রাখেন। এক পর্যায়ে ওই তরুণী ল্যান্ড ফোনে কানাডা সরকার ও ঢাকায় কানাডিয়ান হাই কমিশনকে তাকে জোরপূর্বক ঘরবন্দি করে রাখার কথা জানান। ওই তরুণী কানাডায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মুগদা থানায় কানাডিয়ান হাইকমিশন থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তারপর কানাডিয়ান হাইকমিশনের পক্ষে মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র হাইকোর্টে রিট করে। রিটে পুলিশের আইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, মুগদা থানার ওসি, ওই তরুণীর বাবা-মাকে বিবাদী করা হয়

 

 

 

 

 

 

 

আরো পড়ুন

বাবা’ হলো ১২ বছরের কিশোর!

admin

আবারও লকডাউনে মালয়েশিয়া

admin

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দেয়নি ভারত

admin